মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন 2005 :
ভারত সরকারের সব চেয়ে বড় এবং সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের নাম MGNREGA, পুরো নাম মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি এক্ট। বাংলায় এটি ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প নামে পরিচিত। তবে এখন পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার আসার পর ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প হিসাবে ঘোষণা করেছে। কারন এখন পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজ পাওয়া যাবে।
মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন (MGNREGA) ২০০৫ সালের ২৫শে আগস্ট পাস হয় এবং ২০০৬ সালের ২রা ফেব্রুয়ারী থেকে এটি চালু হয়। পশ্চিমবঙ্গে ২০০৬ সালের ১লা এপ্রিল থেকে এই প্রকল্প শুরু হয়। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামের প্রতিটি দারিদ্য পরিবারকে বছরে নূন্যতম ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া এবং দারিদ্য দূর করা।

Table of Contents
মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন 2005 এর মূল উদ্দেশ্য কি ?
মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন 2005 : MGNREGA এর উদ্দেশ্য হল –
গ্রামীণ উন্নয়ন : গ্রামের রাস্তা, পুকুর, জলাশয়, এবং গাছ লাগিয়ে পরিকাঠামো উন্নত করা l
পরিযায়ী শ্রমিক রোধ করা : গ্রামের সাধারন লোকজন যাতে গ্রামেই কাজ পায়। কাজের খোঁজে যাতে বাইরের রাজ্যে বা শহরে যেতে না হয় তার জন্য এই প্রকল্প রূপায়ণ করা।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি : গ্রামের দারিদ্য মানুষের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা l
মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন 2005 প্রকল্পের বৈশিষ্ট কি ?
আইনি অধিকার : এই প্রকল্পটি ভারত সরকারের গ্রামীণ কর্মসংস্থান আইন হিসাবে ২০০৫ সালে পাস হয়। যদি সরকার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ না দিতে পারে তাহলে বেকার ভাতা দিবে।
১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি : বার্ষিক হিসাব অনুযায়ী প্রত্যেক বছর ১এপ্রিল থেকে ৩১মার্চ পর্যন্ত ১২৫ দিনের কাজ।
১৫ দিনের মধ্যে কাজ : আবেদন করার ১৫ দিনের মধ্যে কাজ দিতে হবে l
সমান মজুরি : এই প্রকল্পে কাজ করলে পুরুষ ও মহিলা সবাই সমান মজুরি পাবে। আলাদা করে মজুরি দেওয়া হয় না।
স্থানীয় কাজের সুযোগ : নিজের এলাকায় কাজের সুযোগ আছে। বাড়ি থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে কাজ দিতে হবে। বাড়ি থেকে ৫ কিলোমিটারের বেশি দুরুত্ব হলে ১০ শতাংশ বেশি টাকা দিতে হবে l
সামাজিক নিরীক্ষা : প্রত্যেক ৬ মাস পর পর গ্রামসভায় সমস্ত হিসাব পেশ করতে হবে।
মজুরি প্রদান : প্রত্যেকের বাধ্যতামূলক DBT লিঙ্ক করতে হবে ব্যাঙ্ক একাউন্ট এ। তা না হলে আপনার টাকা একাউন্ট এ ঢুকবে না।

কারা জব কার্ড আবেদন করতে পারবে ?
- আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে l
- পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে l
- শারীরিকভাবে কাজ করতে সক্ষম হতে হবে l
- পরিবারের যে কেউ পুরুষ বা মহিলা প্রাপ্তবয়স্ক হলে উভয়েই আবেদন করতে পারবে l
- BPL, APL, বা জাতিগত এর কোনোনিদিষ্ট নিয়ম নেই l
কারা জব কার্ড আবেদন করতে পারবে না ?
- যারা সরকারি চাকরি করেন তারা আবেদন করতে পারবে না l
- যারা সরকারকে ইনকাম ট্যাক্স দেন তারাও আবেদন করতে পারবে না l
- শহর এলাকার বাসিন্দা হলে আবেদন করা যাবে না l
- বয়স ১৮ বছরের কম বা নাবালক হলে আবেদন করা যাবে না l
একটা পরিবার থেকে একাধিক সদস্য আবেদন করতে পারবে কিন্তু ওই পরিবারটি বছরে ১২৫ দিনের বেশি কাজ করতে পারবে না।
অফলাইন আবেদন পদ্ধতি :
আপনি যদি ১২৫ দিনের কাজের জন্য বা জব কার্ডের কাজের জন্য আবেদন করতে চান তাহলে আপনার এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস অথবা BDO অফিসে যোগাযোগ করতে হবে গ্রাম পঞ্চায়েত বা প্রধানের মাধমে। এছাড়াও জনকল্যান শিবিরে গিয়ে সেখান থেকে জব কার্ডের ফর্ম নিয়ে আসুন। ফর্ম একদম বিনামূল্যে পাওয়া যায়। কোনো টাকা লাগে না। সঠিকভাবে ফর্মটি পূরণ করে জমা দিন যেখান থেকে আপনি ফর্মটি তুলেছেন সেখানে।
ডকুমেন্টস কি কি লাগবে ?
আঁধার কার্ড : পরিবারের সকল সদর্শের আঁধার কার্ড জেরক্স কপি জমা দিতে হবে l
ভোটার কার্ড : পরিবারের সকল সদর্শের ভোটার কার্ড জেরক্স কপি জমা দিতে হবে। ঠিকানার প্রমাণপত্র হিসাবে l
রেশন কার্ড : পরিবারের সকল সদর্শের রেশন কার্ড জেরক্স কপি জমা দিতে হবে।
ব্যাঙ্ক পাসবই : শুধুমাত্র আবেদনকারীর নামে যে ব্যাঙ্ক একাউন্ট আছে সেই ব্যাঙ্ক একাউন্ট জমা দিতে হবে। মনে রাখবেন ব্যাঙ্ক একাউন্ট এর সাথে আঁধার লিঙ্ক এবং DBT (Direct Benefit Transfer) লিংক থাকাটা বার্ধতামূলক।
এবং পাসপোর্ট সাইজ ফটো l
ফর্ম জমা দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ভেরিফিকেশন হবে। ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে গেলে আপনার নামে জব কার্ড ইস্যু হবে। জব কার্ডটিতে ১৫ সংখ্যার জব কার্ড নম্বর থাকবে। আপনার নামে জব কার্ড ইস্যু হয়ে গেলে কাজ অটোমেটিক আসবে না আপনাকে কাজ চাইতে হবে।
অনলাইন আবেদন পদ্ধতি :
আপনি যদি অনলাইনে আবেদন করতে চান তাহলে MGNREGA এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটি হলো https://nrega.nic.in .তবে আমার মতে অফলাইনে আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে
কাজ কিভাবে পাবেন ?
জব কার্ড পাওয়ার পর গ্রাম পঞ্চায়েত এ যোগাযোগ করুন। কতজন কাজ করতে চান সেটা জানান। কিছুদিনের মধ্যে আপনাকে কাজ করার জন্য বলবে। কাজ শুরু হয়ে গেলে আপনাকে প্রতিদিন কাজের জায়গায় গিয়ে হাজিরা দিতে হবে। রোজ সকালে মাস্টার রোল এ সই করতে হবে। যদি ১৫ দিনের মধ্যে কাজ না দেয়, তাহলে আপনি প্রতিদিনের জন্য মজুরির এক-তৃতীয়াংশ বেকার ভাতা পাবেন।
মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন 2005 এর অধীনে কি কি কাজ হয় ?
প্রধান ৮ টি কাজ হয় –
- জল সংরক্ষণ : পুকুর কাটা, খাল সংস্কার করা, জলাশয় তৈরী করা l
- রাস্তা : গ্রামের রাস্তাঘাট তৈরী করা এবং পরিষ্কার করা l
- সেচ : কুয়ো, বোরিং, ক্ষেতের আল তৈরী করা l
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ : নদীর পার বাঁধাই করা l
- ভূমি উন্নয়ন : পতিত জমি চাষ যোগ্য করে তোলা l
- বৃক্ষরোপণ : সরকারি জমি ও রাস্তাতে গাছ লাগানো l
- স্বাস্থ ও শিক্ষা : অঙ্গনওয়াড়ি, স্কুল ও কলেজের মাঠ পরিষ্কার করা l
- গ্রামীণ আবাস : আবাস যোজনার সাথে যুক্ত কাজ করা l
২০২৬ এর ১২৫ দিনের কাজের নতুন আপডেট ও নিয়ম কি কি ?
মজুরি বৃদ্ধি : ২০২৬ সালে প্রতিদিনের মজুরি ৩০০ টাকা করা হয়েছে।
Aadhaar Based Payment System : এখন ১২৫ দিনের কাজের সমস্ত টাকা Direct Benefit Transfer এর মাধমে সরাসরি Bank একাউন্ট এ দেওয়া হবে।
Geo Tagging : প্রতিদিনের সমস্ত কাজের ছবি Geo Tag করে মোবাইল App এ আপলোড করতে হবে।
National Mobile Monitoring System : রোজ সকালে কাজ শুরু এবং শেষ এর ছবি তুলে আপলোড করতে হবে।
e-Master : এখন ১২৫ দিনের কাজে মাস্টার রোল এর বদলে App এ হাজিরা দিতে হবে।
MGNREGA শুধু একটি কাজের প্রকল্প নয়। এটি গ্রামের মানুষের জীবন জীবিকার একটি আয়ের উৎস ও নিরাপত্তা। করোনা কালে এই প্রকল্প লক্ষ লক্ষ মানুষের পাশে দাঁড়িছে। যদি আপনার এখনো জব কার্ড না থাকে তাহলে দেরি না করে তাড়াতাড়ি জব কার্ড বানিয়ে নিন। মনে রাখবেন, কাজ চাওয়া ও পাওয়া আপনার অধিকার।
গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক :
- Official Website : https://nrega.nic.in
- WB MGNRAGA Portal : https://wbprd.wb.gov.in
- Helpline Number : 1800 345 2708
Note : সময়ের সাথে সাথে তথ্য পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে অবশ্যই একবার গ্রাম পঞ্চায়েত বা BDO অফিসে যোগাযোগ করে নিবেন।
সাধারন জিজ্ঞাসা :
-
এক বছরে ১২৫ দিনের বেশি কাজ পাওয়া যায় কি ?
না। এক বছরে ১২৫ দিনের বেশি কাজ পাওয়া যায় না। কিন্তু রাজ্য সরকার চাইলে আরও অতিরিক্ত কাজ দিতে পারে।
-
বয়স্ক লোক বা অসুস্থ লোক কি কাজ করতে পারবে ?
হ্যা। বয়স্ক লোক বা অসুস্থ লোক কাজ করতে পারবে। তাদের জন্য হালকা কাজ আছে যেমন গাছ লাগানো এবং গাছে জল দেওয়া।
-
মহিলারা কি কাজ করতে পাবে ?
হ্যা। মহিলারাও কাজ করতে পারবে। তাদের জন্যেও ৩% কাজ সংরক্ষণ আছে।
-
আমার জব কার্ড হারিয়ে গেছে। কি করবো ?
যদি জব কার্ড হারিয়ে যায় তাহলে পঞ্চায়েত এ যোগাযোগ করুন। ১৫ দিনের মধ্যে পেয়ে যাবেন।
-
প্রাইভেট জমিতে কাজ হয় কি ?
হ্যাঁ। প্রাইভেট জমিতে কাজ হয়। গ্রামের লোকেদের যারা SC, ST বা BPL ক্যাটেগরি তাদের জমিতে পুকুর খনন, চাষের জন্য জলাশয় খনন করার কাজ করা হয়।
-
কাজের জায়গায় শিশুদের জন্য কি কোনো ব্যবস্থা আছে ?
কাজের জায়জায় শিশুদের জন্য Creche আর পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
-
Complaint কোথায় করবো ?
টোল ফ্রি নম্বর 1800 345 2708, অথবা BDO, SDO এবং গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে Complaint করতে পারেন।
-
একই দিনে দুটি কাজ করা যায় কি ?
একই দিনে দুটি কাজ করতে পারবেন। কিন্তু ধরা পড়লে টাকা কেটে নেওয়া হয়।
-
শহরের মানুষ কি কাজ করতে পারে ?
না। শহরের মানুষ কাজ করতে পারবে না। এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র গ্রামীণ এলাকার জন্য।
-
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিনের মজুরি কত ?
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিনের মজুরি ৩০০ টাকা।
